পরিবেশ মন্ত্রককে তুলোধোনা করল কোর্ট পাঁচ কোটি দিয়ে যমুনায় যাওয়ার ছাড়

Posted on


image.jpg

উৎকণ্ঠার অবসান!

জাতীয় পরিবেশ আদালতের অনুমতি পেল আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব। তবে এই অনুষ্ঠানের জন্য যমুনার চরে নির্মাণ কাজের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সংস্থা ‘আর্ট অব লিভিং’-কে। তা ছাড়া, দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ও দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকেও কর্তব্যে অবহেলার জন্য যথাক্রমে ৫ লক্ষ ও ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ আদালত।

১১ মার্চ থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ওই আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব। চলবে তিন দিন। শুরু থেকেই অনুষ্ঠানটি ঘিরে প্রচারের খামতি ছিল না। গোটা দিল্লির রাস্তায় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি দিয়ে বিশাল বিশাল হোর্ডিং। দিল্লিগামী সব ট্রেনেই উপচে পড়া ভিড়। সকলেই যাচ্ছেন রবিশঙ্করের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।

কিন্তু এরই মধ্যে অনুষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বেশ কিছু পরিবেশবিদ। তাঁদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানটির জন্য যমুনার তীরে প্রচুর নির্মাণকাজ হচ্ছে। যার ফলে দিল্লি থেকে নয়ডার মধ্যে প্রায় হাজার একর জলাভূমি চিরতরে হারিয়ে যাবে। কার্যত মাঠে পরিণত হবে গোটা এলাকাটি। তা ছাড়া, যমুনার চরে এই অনুষ্ঠানের জন্য শুধু নদীতেই নয়, গোটা এলাকাতেই   দূষণ বাড়বে। নষ্ট হবে নদীর বাস্তুতন্ত্র। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। পরিবেশবিদ তথা আদালতে আবেদনকারী মনোজ মিশ্রের মতে, অনুষ্ঠানের জন্য একটু একটু করে প্রতি মুহূর্তে নষ্ট করা হচ্ছে নদী ও নদীর চর। যা আর কোনও দিন ফেরানো যাবে না!

আদালতের চূড়ান্ত শুনানির আগেই, গতকাল রাষ্ট্রপতি জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘অনিবার্য কারণবশত’ তিনি ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না। প্রধামন্ত্রীর দফতর সূত্রেও জানানো হয়েছিল, নিরাপত্তার কারণে মোদীকে ওই অনুষ্ঠানে যেতে ছাড়পত্র দিতে নারাজ এসপিজিও। কিন্তু এ দিন আদালতে ছাড়পত্র মেলার পরেই মোদীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফের তোড়জোড় শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের তরফে এ দিন প্রধামনন্ত্রীর দফতরে ফের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

আজ ক্ষতিপূরণ দিয়ে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দিলেও আদালতের ভর্ৎসনা শুনতে হয়েছে সব পক্ষকেই। উদ্যোক্তারা তো ছিলেনই, আদালতের সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পায়নি কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক মন্ত্রক এবং দফতরও। পরিবেশ মন্ত্রকের ভূমিকাকে আজ তুলোধোনা করেন বিচারক। আদালত পরিবেশ মন্ত্রকের কাছে জানতে চায়, ‘‘আপনাদের প্রাথমিক কর্তব্য কী? আপনারা কি মনে করেন, ওই অনুষ্ঠানের ফলে পরিবেশ দূষণ হবে না?’’ জবাবে পরিবেশ মন্ত্রকের আইনজীবী জানান, পরিবেশ দূষণ হবে কি না তা দেখার জন্য একটি সমীক্ষার প্রয়োজন। পাল্টা প্রশ্নে বিচারক স্বতন্ত্র কুমার জানতে চান, ‘‘ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পরে কি আপনারা সমীক্ষা চালাবেন?’’ যে ভাবে জলসম্পদ মন্ত্রক পরিবেশ দূষণের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে, তাতেও ক্ষুব্ধ আদালত। পরিবেশবিদদের একাংশের মতে, জলাভূমি ধ্বংস হচ্ছে দেখেও
সকলে চুপ করে ছিলেন। কারণ, ওই সংস্থার প্রভাব অনেক বেশি।

এ দিন লোকসভাতেও এই অনুষ্ঠানটির প্রসঙ্গ ওঠে। বিরোধীরা দূষণের অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা চান। পরে সরকারের তরফে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, ‘‘বিষয়টি পরিবেশ আদালতের বিচারাধীন। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও কথা বলা যাবে না।’’ ওই অনুষ্ঠানের জন্য সেনাবাহিনী একটি সেতু তৈরি করে দিচ্ছে। প্রধানত কংগ্রেস এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পর্রীকর এই বিষয়টি মাথায় রেখে আগে-ভাগেই তালিকা তৈরি করে রেখেছেন। সেটা প্রধানমন্ত্রীকেও তিনি দেখিয়ে রেখেছেন বলে জানা গিয়েছে।

কী রয়েছে সেই তালিকায়?

সূত্রের খবর, বেসরকারি ভাবে কোথায় কোথায় সেনারা এই ধরনের কাজে সাহায্য করেছে, ওই তালিকায় রয়েছে সেই তথ্যই। কুম্ভ মেলা তো রয়েছেই, এর আগে নয়াদিল্লিতে ইয়ান্নি কনসর্টেও সেনারা সাহায্য করেছিল বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর। ফলে বেসরকারি উদ্যোগেও সেনা সাহায্য প্রথম নয় বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি।

তবে কোনও বিতর্ককেই আমল দিচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। কাজ চলছে জোর কদমে। আসতে শুরু করেছেন শিল্পীরাও। বিভিন্ন দেশ থেকে তো প্রতিনিধিরা রয়েছেনই। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন হাজার জন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। এ ছাড়া রয়েছেন হাজারেরও বেশি যন্ত্রশিল্পী। রবীন্দ্রসঙ্গীতের ওই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন, কলকাতার সঙ্গীত ভারতী মুক্তধারার কর্ণধার অরুন্ধতী দেব। তিনি এ দিন বলেন, ‘‘রবিশঙ্করের ‘বসুধৈব কটুম্বকম’ এই ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রবীন্দ্রনাথের গান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘বসন্ত’। সেটাই এখানে পরিবেশিত হবে।’’

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s