বাংলাদেশের দুই বোলার তাসকিন-সানি নিষিদ্ধ হওয়ায় যা বলল ভারতীয় মিডিয়া!

Posted on


14
তাসকিন যাচ্ছেন, ফিরেছেন সানি ধর্মশালায় শরণার্থী তিব্বতিয়ানদের জন্য কালকের দিনটি ছিল উৎসবের দিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকদিন পর প্রবাসী কার্যালয়ে ফিরেছেন ১৪তম দালাইলামা তেনজিন গেটসো। প্রাণপ্রিয় নেতা ও ধর্মীয় গুরুকে স্বাগত জানাতে দিনমজুর থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও ধর্মশালার প্রধান সড়কের দুই পাশে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুঃখী তিব্বতিদের আনন্দে গুমোট প্রকৃতিও যেন হেসে ওঠে। কিন্তু সকালের ঝলমলে রোদ মিলিয়ে যায় দুপুরের পর পরই। বিকালে মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। কনকনে ঠাণ্ডা তো ছিলই। গতকাল ধর্মশালায় তাপমাত্রা এত কম ছিল যে স্টেডিয়ামের আশপাশের ছোট পাহাড়গুলোতেও বরফ জমতে শুরু করেছিল। বৃষ্টির সঙ্গে হিম বাতাস সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। তীব্র শীত উপেক্ষা করেও কাল মাঠে নামতে হয়েছিল ক্রিকেটারদের। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও কাল হাজার খানেক দর্শক হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসেছিলেন বাংলাদেশের খেলা দেখতে। যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। ধর্মশালার পাশের শহর শিমলা, চন্ডিগড়ের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত। প্রিয় বাংলাদেশ দলের খেলা দেখতে তারা মাঠে এসেছিলেন। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের মাত্রার দিক দিয়ে এ বছর চেরাপুঞ্জিকেও ছাড়িয়ে গেছে ধর্মশালা। তাই এখানে বৃষ্টিপাতের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার পরও টাইগার ভক্তরা মাঠে এসেছিলেন। এমন তীব্র শীতে ব্যাটিং কিংবা ফিল্ডিং করা যে কতো ভয়াবহ ও কষ্টের কাজ তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বাংলাদেশের গতি তারকা তাসকিন আহমেদের কাছে এই কষ্টের চেয়েও বড় ‘কষ্টের বিষয়’ ছিল বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি! আজ বাংলাদেশ দলের অন্য ক্রিকেটাররা যখন ধর্মশালা থেকে কলকাতার পথে রওনা দেবেন, তখন তাসকিনকে যেতে হবে চেন্নাইয়ে। পরীক্ষার পর আগামীকাল দলের সঙ্গে কলকাতায় যোগ দেবেন ২১ বছর বয়সী এই তারকা পেসার। বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর যেন তাসকিনের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে গেছে। ধর্মশালায় এখন তার অনেক ভক্ত। তাই তো দেখা যায় গতকাল ম্যাচ শুরুর পূর্বে জাতীয় পতাকা বহনকারী এক স্বেচ্ছাসেবক নিজের দায়িত্ব ভুলে দৌড়ে গিয়ে অটোগ্রাফ নেন তাসকিনের। বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে গতকাল দুপুরেই চেন্নাই থেকে ধর্মশালায় ফিরেছেন স্পিনার আরাফাত সানি। গতকাল বিকালে জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন টিম হোটেল ‘দ্য প্যাভিলিয়নে’ নিজের রুমে ঘুমাচ্ছিলেন সানি। পরীক্ষা কেমন হলো? আরাফাত সানি সন্তুষ্ট কিনা? এ ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘ক্লান্ত আরাফাত সানি। দেড়টার দিকে সে ফিরেছে। এখন ঘুমাচ্ছে।’ বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচে জয়ের পরই দুঃসংবাদটা ছড়িয়ে যায়। এ নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব ক্রিকেটে। অনেকেই বলেন, তাসকিন ও সানির বোলিং কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ নয়। কেউ কেউ আবার ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশের দুই বোলার আরাফত সানি ও তাসকিন আহমেদ। এটি ভারতীয় মিডিয়ার প্রধান খবর।

বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদ ও আরাফত সানির বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ধর্মশালাতেই সংশয় প্রকাশ করেছিল আম্পায়াররা। সেই মতো দু’জনকেই পাঠানো হয়েছিল চেন্নাইয়ে। সেখান থেকে একদিনের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে তাসিকন আহমেদ ধর্মশালায় পৌঁছে গেলেও সানি কলকাতায় যোগ দেন দলের সঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলা আর হচ্ছে না দু’জনেরই।

ভাবা হয়েছিল তাসকিন বেঁচে যাবেন কিন্তু তেমনটা হল না। দু’জনকেই নির্বাসিত করা হল। যতক্ষণ না আবার বোলিং অ্যাকশন ঠিক হচ্ছে এই দুই প্লেয়ারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা হবে না। আইসিসির ওয়েব সাইটে এই তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s