মাস: মে 2016

ভারতীয় ভিসার সাক্ষাতের তারিখ জানা যাবে এসএমএসে

Posted on


পর্যটন ভিসা আবেদন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় হাইকমিশন। ফলে এখন থেকে এসএমএসে জানা যাবে সাক্ষাতের সময়। এ জন্য অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রার্থীকে প্রকৃত মোবাইল নম্বর যোগ করতে হবে। ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পর্যটন ভিসা আবেদনকারীদের ভারতীয় ভিসা আবেদন সেন্টারে প্রবেশ এবং আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য মুঠোফোন (এসএমএস) বার্তা অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে। পর্যটন ভিসা02 আবেদনকারীদের সাক্ষাৎ তারিখ ও পাসওয়ার্ড আজ ৩০ মে থেকে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর মোবাইল ফোনে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হবে। তবে ৫ জুন পর্যন্ত যারা হাইকমিশনে পর্যটন ভিসার বিষয়ে সাক্ষাৎ করার সময় এরই মধ্যে পেয়েছেন, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। ভারতীয় ভিসা আবেদন পদ্ধতি সহজ করার জন্য এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisements

অনিবন্ধিত ও বন্ধ সিম যেভাবে চালু করা যাবে

Posted on


অনিবন্ধিত ও বন্ধ সিম যেভাবে চালু করা যাবে

আগামীকাল শেষ হচ্ছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিব্ন্ধন কার্যক্রম। তারপরই বন্ধ হয়ে যাবে সকল অনিবন্ধিত সিম। তবে দুইমাসের মধ্যে তা আবার পুনর্নিবন্ধন করে চালু করা যাবে। এক্ষেত্রে নতুন সিম কিনে রেজিস্ট্রেশনের সময় কেউ চাইলেই পুরনো নম্বরটি পাওয়া যাবে।

জানা যায়, ‘জিরো আওয়ার’ থেকে অনিবন্ধিত সিম স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো। এা আগে গত ২৫ মে বিটি02আরসি আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিম বন্ধ করতে অন্তত দেড় দিন সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা।

গত রবিবার সকালে সচিবালয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সিম পুনর্নিবন্ধন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনিবন্ধিত সিম বন্ধ করতে দুই দিনেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

এদিকে, আগামী ২ জুন থেকে অনিবন্ধিত সিম বন্ধ হলেও প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সিমগুলো বন্ধ হবে না। পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভবে তাদের সিম পুনর্নিবন্ধন করিয়ে নিতে হবে। তবে বন্ধ হওয়া সিম পুনর্নিবন্ধনের আগ পর্যন্ত সাময়িক বন্ধ থাকবে।

 

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা আটক

Posted on


ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের এক ব্যক্তির (৪৫) বিরুদ্ধে নিজের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ১৭ বছর বয়সী মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে  ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। খবর বিডি নিউজের।

কিশোরীর মা জানিয়েছেন, রবিবার তিনি তার বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। সেই সুযোগে মেয়েকে একা পেয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে তার বাবা। এর আগেও কয়েকবার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল।

এদিকে, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বাবাকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে ওই কিশোরী।

 

মৃত্যুর মিছিলের শেষ নেই

Posted on


মৃত্যুর মিছিলের শেষ নেই

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই। এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১১৭ জন। নয় বছরের শিশু বাবার হাত ধরে ভোট দেখতে গিয়েও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। নারী, বৃদ্ধ ও ফেরিওয়ালাও রয়েছেন নিহতের তালিকায়। রয়েছেন চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীও। ২২ মার্চ প্রথম ধাপ থেকে ক্রমেই সহিংসতা বেড়েছে। পঞ্চম ধাপে ভোটের দিন সবচেয়ে বেশি সহিংসতায় ১৩ জনের প্রাণ হারায়। মৃত্যুর মিছিলে সর্বশেষ যুক্ত হন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের নাজমুল নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী। ইউপি সদস্য সমর্থক এ যুবক সংঘর্ষে ধাওয়া খেয়ে আহত হন। পরে গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজহাসপাতালে মারা যান নাজমুল। নিহতদের দলীয় পরিচয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক রয়েছেন অন্তত ৬০ জন। এ ছাড়া রয়েছেন বিএনপির ছয়জন, জাতীয় পার্টি-জেপির একজন, জনসংহতি সমিতির একজন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক দুই এবং মেম্বার প্রার্থীর কর্মী সমর্থক ৩৫ জন। সহিংসতায় প্রাণহানির অন্তত ১২ জন রয়েছেন সাধারণ মানুষ। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন শিশুসহ সম্ভাব্য দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তিনজন মেম্বার প্রার্থীও রয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৪২টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচন-পূর্ব সংঘর্ষে ৪৮ জন, নির্বাচনকালীন সংঘর্ষে ৪০ জন এবং নির্বাচনোত্তর সংঘর্ষে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ দফার ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন অন্তত ২০ জন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা যায়। প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২২ মার্চ। বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিজস্ব অনুসন্ধান ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে কাজ করা নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সুশাসনের 1111জন্য নাগরিক (সুজন) ও ব্রতীর প্রাথমিক প্রতিবেদনে সহিংসতা ও হতাহতের এ চিত্র উঠে এসেছে। স্থানীয় সরকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউপি নির্বাচনে প্রতিটি ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। যে বা যারাই দোষী হোন না কেন— তাদের বিচারের আওতায় দাঁড় করাতে হবে। নইলে সামনের সব নির্বাচনেই একই ঘটনার পুনরাবৃতি ঘটবে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব শত্রুতার জেরও নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচনকে মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে নির্বাচনী সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য ছোলা কেনা-বেচার মতো হয়েছে। কোথাও কোথাও মৃত ব্যক্তিরাও ভোট দিয়েছেন। আমার মতে, নির্বাচনে নিহতরা শহীদ হয়েছেন। এ নির্বাচনকে একটি শহীদি নির্বাচন বলে আখ্যা দেওয়া যায়। নির্বাচন কমিশন অন্তত আর কিছু করতে পারুক বা না পারুক, যারা মারা গেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করতে পারেন। যদিও এতগুলো মানুষ মারা যাওয়া কোনো খেলা কিংবা তামাশার বিষয় নয়।’ প্রাণহানির ক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেই বেশি মারা গেছেন। এর মধ্যে ঢাকায় এ পর্যন্ত ২০ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নির্বাচনী সহিংসতায় একজন পুলিশ সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে। তার নাম গোলাম ফারুক। গত ১৮ এপ্রিল রাত ৯টায় নড়াগাতি থানার চরকেকানিয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ফারকান মোল্যা এবং বিদ্রোহী প্রার্থী চুন্নু শেখের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন গোলাম ফারুক। দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ফারুক। ৪০ দিন পরে গত শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অতীতে নির্বাচনের তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৩ ও ১৯৯২-এ প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ১৯৮৮ সালে ৮০ জন, ১৯৯৭ সালে ৩১ জন, ২০০৩ সালে ২৩ জন এবং ২০১১ সালে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে। অতীতের নির্বাচনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ১৯৮৮ সালে। তবে প্রাণহানির ক্ষেত্রে সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে এবারের ইউপি নির্বাচন। এটা পর্যায়ক্রমেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ পঞ্চম ধাপে নির্বাচনী সহিংসতার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জেই চারজন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দুজন, চট্টগ্রামের পটিয়ায় তিনজন, কুমিল্লার তিতাস, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এবং পঞ্চগড়ে একজন করে নিহত হন। এর মধ্যে একজন চেয়ারম্যান ও একজন ইউপি সদস্য প্রার্থীও রয়েছেন। এর দুই দিন আগে 02আরও দুজন নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হন। এর মধ্যে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নে একজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন। বাকি তিনজনই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক বলে এলাকায় পরিচিত। সোনারগাঁয়ের নিহত ব্যক্তিও আওয়ামী লীগ সমর্থক। চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিহত তিনজনের মধ্যে একজন ইউপি সদস্য প্রার্থী ছিলেন। বাকি দুজন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক। কুমিল্লার বলরামপুর ইউনিয়নের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নিহত হন। প্রথম ধাপে ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধানীসাফা ইউনিয়নের পাঁচজন যথাক্রমে মোহাম্মদ সোহেল, শাহাদাত হোসেন, কামরুল মৃধা, বেলাল ও সোলাইমান একসঙ্গে মারা যান। তারা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। একই দিন কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্যের সংঘর্ষে শফিকুল আলম নামে একজন মারা যান। একই ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ভাই আবদুল গফুর মারা যান। ঝালকাঠি সদরের নবগ্রাম ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের সংঘর্ষে কাশেম শিকদার নামে একজন মারা যান। সিরাজগঞ্জ সদরের জয়ানপুর ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মারামারিতে পদদলিত হয়ে নওনাই বেগম নামে এক মেম্বার প্রার্থীর মা মারা যান। পটুয়াখালীর কালিশুরি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংঘর্ষে হুমায়ুন মালিক নামে একজন মারা যান। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন। নেত্রকোনোর খালিয়াজুরি ইউনিয়নে পুলিশের গুলিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভাই আবু কাউসার মারা যান। ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের দিন কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নে মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে কাজী শুভ নামে এক শিশু মারা যায়। যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্যের গোলাগুলিতে আবদুস সাত্তার বিশে নামে এক ফেরিওয়ালা নিহত হন। জামালপুরের মেলান্দহে ইউপি সদস্যের হামলায় রকিবুল ইসলাম নামে এক মেম্বারের সমর্থক মারা যান। মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্যের বিজয় মিছিল থেকে হামলা করা হয়। এতে নমেছা বেগম নামে পরাজিত প্রার্থীর এক কর্মীর স্ত্রী মারা যান। মাদারীপুর সদরের ধুরইল ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে সুজন মৃধা নামে একজন মারা যান। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকরা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ গুলি করলে ঘটনাস্থলেই সানাউল, ইব্রাহিম ও জামাল নামে তিনজন মারা যান। ২৩ এপ্রিল ভোটের দিন পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে পাবনার চাটমোহরে মথুরাপুর ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে এমদাদ হোসেন ইন্দা নামে এক সাধারণ ভোটার মারা যান। আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট পেপারে সিল মারাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইদ্রিস মিয়া নামে একজন সাধারণ ভোটার মারা যান। ফরিদপুরের মধুখালীর বাগাট ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভাই আতিয়ার রহমান খান নিহত হন। গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের সংঘর্ষে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর ভাই আবুল খসরু মারা যান। 02কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শ্রীনগর ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের সংঘর্ষে সিদ্দিক মিয়া নামে একজন মারা যান। ৭ মে চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের দিন মারা যান আটজন। এর মধ্যে রাজশাহীর বাগমারার আউচপাড়া ইউনিয়নে পুলিশের গুলিতে আওয়ামী লীগের দুই কর্মী সিদ্দিকুর রহমান (২৪) ও মুনতাজ (৪২) নিহত হন। নরসিংদীর রায়পুরার পাড়াতলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকির হোসেনের সমর্থক হোসেন আলী নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ধাড়ালো অস্ত্রের আঘাতে মারা যান। রায়পুরার শ্রীনগর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক আহমদ আলীর ছেলে সুমন মিয়া (৩০) নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মারা যান। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে দুজন ইউপি সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় তাপস চন্দ্র দাস (৩২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত তাপস চান্দলা গ্রামের কানু চন্দ্র দাসের ছেলে। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর পাড়িয়া ইউনিয়নের কালডাঙ্গা মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে গতকাল দুপুরে জালভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিন ইউপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকের সংঘর্ষ চলার সময় গুলিতে এক যুবক নিহত হন। তার নাম মাহবুব আলম (১৮)। তিনি মাছখুড়িয়া গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে। একই দিন বালিয়াডাঙ্গীর আমজানখোড় ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের সংঘর্ষে ইটের আঘাতে আছমা বেগম নামে এক নারী নিহত হন। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক লেবু মিয়া (৪০) পুলিশের গুলিতে নিহত হন। –

খালেদাসহ ৫১ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট

Posted on


খালেদাসহ ৫১ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট

বিশেষ ক্ষমতা আইনে দারুস সালাম থানার দায়ের করা দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৫১ জনের 02বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম এমদাদুল হকের আদালতে চার্জশিট দুটি দাখিল করা হয়। এর একটি মামলায় আসামি রয়েছে ২৮ জন, অন্যটিতে ২৩ জন। ২০১৫ সালে হরতাল অবরোধ চলাকালে ফ্রেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এ মামলা দুটি দায়ের করা হয়। হরতাল চলাকালে গাড়ি ভাঙচুর ও পোড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও আসামি করা হয়েছে বিএনপির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ ৫১ নেতাকে। এ নিয়ে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

সরকারের মেয়াদ চার বছর করুন

Posted on


সরকারের মেয়াদ চার বছর করুন

পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে বাংলাদেশে সরকারের মেয়াদ চার বছর করার প্রস্তাব করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারা চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গতকাল এক আলোচনা সভায় এ প্রস্তাব দেন তিনি। বি. চৌধুরী বলেন, ‘আমার একটা বিশেষ প্রস্তাব আছে। প্রতিবেশী অনেক দেশে যান, চার বছর পর পর নির্বাচন হয়। আমেরিকায় যান, চার বছর পর পর নির্বাচন, ইংল্যান্ডে যান চার বছর পর। আমাদের কেন পাঁচ বছরে থাকতে হবে? বদলানো যায় না? সরকারকে বলব, আপনি চার বছরে আনুন।’ সেই সঙ্গে নির্দলীয় সরকারের দাবিও তুলে ধরেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি বি. চৌধুরী। ‘শেষের তিন মাস সত্যিকার অর্থে যারা নির্বাচিত তাদের নিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করুন। তাহলেই তাদের অধীনে একটা ফার্স্ট ক্লাস নির্বাচন হবে।’ বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার হাল তুলে 02ধরতে গিয়ে চলমান ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টানেন বিকল্প ধারা সভাপতি। ‘এটা কী রকম নির্বাচন? এত মানুষ মারা যায়, ইচ্ছামতো ভোট, অনেককে মনোনয়নপত্র জোর করে প্রত্যাহার করানো হয়। গণতন্ত্র কোথায়? এটা কোনো নির্বাচন হলো?’ ‘সরকারের লজ্জা লাগে না, আমাদের লজ্জা লাগে, কেননা (আমরা) দেশের সিনিয়র সিটিজেন; মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা লজ্জিত, আমাদের মায়েরা লজ্জিত, সন্তানরা লজ্জিত, দেশের মানুষ লজ্জিত।’ এ ধরনের ভোটের জন্য সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) দায়ী করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। ‘মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তার কোনো মেরুদণ্ড নেই। খবরের কাগজে দেখেছি, উনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আমার ট্যাংক লাগবে। ট্যাংক নিয়ে যুদ্ধ করে নির্বাচন হবে— লজ্জা লাগে না। আপনার মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথায় লজ্জায় মরে যাই। এরপরও দাঁড়িয়ে আছেন, এরপরও পদত্যাগ করেন না। আপনি লজ্জায় মরে যান, শরমে মরে যান।’ বাংলাদেশ মুসলিম লীগের অষ্টম জাতীয় কাউন্সিলে বক্তব্য রাখছিলেন বিকল্প ধারা সভাপতি। এতে সভাপতিত্ব করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল আজিজ হাওলাদার।

একাধিক বিয়ে : মাহির অস্বীকার

Posted on


এ যেন রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের মতো— ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’। বলছি মাহির বিয়ের কথা। কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মাহির গোপন বিয়ের খবর। গত ২৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পর আবারও সামনে এসেছে সেই শাওনের সঙ্গে মাহির গোপন বিয়ের খবর ও ছবি। তথাকথিত এ বিয়ের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল গত ডিসেম্বরে। সেই স্ফুলিঙ্গ থেকেই আবার আগুনের গোলা বেরুচ্ছে গত কয়েক দিন ধরে। আর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ নানা গণমাধ্যমে। তবে বরাবরের মতো এ খবরকে অস্বীকার করে মাহি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘যারা আমার সংসার ভাঙতে অপতত্পরতা চালাচ্ছে তাদের আমি ছাড়ব না। ইতিমধ্যে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রয়োজনে আরও অ্যাকশনে যাব। বাকিটা সময় হলেই দেখতে পাবেন’। বুধবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন জনপ্রিয় এই নায়িকা। কিন্তু বিয়ের দুদিনের মাথায় শুক্রবার সন্ধ্যায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় যে, মাহি আগেও বিয়ে করেছেন। শাওন শাহরিয়ার নামে এক ছেলের সঙ্গে মাহির বিয়ের ছবিও ফেসবুকে ছাড়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথমবার মাহির সঙ্গে এই শাওনের বেশ কিছু ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। উভয়ের আইডি থেকেই ছবিগুলো আপলোড করা হয়। তখনই শাওনের সঙ্গে মাহির গোপন ‘বিয়ের খবর’ উচ্চারিত হয়। মাহি তখন এ খবরকে স্রেফ গুজব বলে দাবি করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছিলেন, ‘ছবি আপলোড করলেই কী বিয়ে হয়ে যায়?’ তবে তার ঘনিষ্ঠ এক সূত্র দাবি করেছিল দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এক সপ্তাহ ধরে তারা ময়মনসিংহে অবস্থান করছেন। সেই সময় এ খবরটি চাপা পড়ে যায় অন্যান্য খবরের অন্তরালে। কিন্তু সেই গুঞ্জনটি ফের বেগবান হলো মাহির সঙ্গে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ

02মোহাম্মদ অপুর বিয়ের পর। নতুন করে আবার এই ধরনের খবর প্রচারে মাহি বলেন, ‘যে সব নিউজ পোর্টাল আমার সঙ্গে কথা না বলে এসব খবর প্রকাশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। শাওনসহ এ কাজে জড়িতদের ছাড়ব না। তাদের আইনের মুখোমুখি করব।’ মাহি আরও বলেন, ‘আগেও এমন অপপ্রচার চালানো হয়। তখনই এ ব্যাপারে অ্যাকশনে যাওয়া উচিত ছিল। চুপ থাকায় শত্রুরা সাহস পেয়ে গেছে। এবার আর ছাড় দেব না।’ এদিকে শাওনের সঙ্গে হালের প্রকাশিত তার ঘনিষ্ঠ ছবি সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহি বলেন, ‘ও আমার ছোটবেলার বন্ধু। একজন ভালো বন্ধু ছাড়া আর কিছুই তাকে কখনো ভাবিনি। এক সময় বুঝতে পারলাম আমার প্রতি সে দুর্বল। তখন তাকে এড়িয়ে চলতে থাকি। ভালো বন্ধু ও দুই পরিবারের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল বলে বিভিন্ন সময় মজা করে কিছু ছবি তুলেছিলাম। শাওন এখন এসব ছবিকে অন্য ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করছে।’ তবে তার সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে তোলা ছবি সম্পর্কে নিশ্চুপ ছিলেন মাহি। প্রকাশিত ছবিতে তাকে বধূবেশে দেখা যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাহি বলেন, ‘ওগুলো আসলে একটি ছবির শুটিংয়ের সময় তোলা। তখন শাওনও সেখানে ছিল। মজা করে তখন ক্যামেরাবন্দী হয়েছিলাম আমরা। এই ছবিগুলোই এখন আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাওনসহ আমার শত্রুরা ছবিগুলো ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।’ কোন ছবির দৃশ্য এটি জানতে চাইলে মাহি তা মনে করতে পারছেন না বলে জানান। মাহি বলেন, ‘অপুকে বিয়ে করায় শাওন জেলাস ফিল করছে। তাই সে এসব মিথ্যা ছবি ও কথা ছড়িয়েছে।’ এদিকে মাহির বক্তব্যকে ঘিরে প্যারোডি করে নানারকম মুখরোচক স্ট্যাটাস ও ছবি আপলোড হচ্ছে ফেসবুকে। যেখানে কেউ কেউ ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমরা মজা করে গতকাল রাতে বিয়ে করেছি। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী নই।’ এরকম নিত্যনতুন প্যারোডি বেগবান হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ সাইটে। অন্যদিকে মাহির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শনিবার সেই শাওনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে মাহি বলেন, ‘আগেই বলেছি, যারা এসব অপকর্ম করছে তাদের ছাড় দেব না। তাই শাওনও পার পায়নি। ইতিমধ্যে সে গ্রেফতার হয়েছে। তার কর্মকাণ্ডে আমি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছি। সম্মুখীন হচ্ছি নানা প্রশ্নের। বিশেষ করে বিয়ের পরপর এই ধরনের ঘটনায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’ মাহি আরও বলেন, ‘সুস্থ মানসিকতার কোনো ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করতে পারে না। শাওন আমার ভালো বন্ধু ছিল সে-ই এখন চরম শত্রু প্রমাণ হলো। যেসব নিউজপোর্টাল আমার সঙ্গে কথা না বলে অতিরঞ্জিত ও মুখরোচক করে এখবর ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও সাইবার ক্রাইম অ্যাক্টে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিউজ পোর্টালগুলো যদি শাওনের বরাত দিয়েও এসব মিথ্যে খবর প্রচার করত তাহলে কিছুই বলতাম না।’ তিনি বলেন, ‘আগেও এ ধরনের খবর প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু ছাড় দিয়েছি, কিছু বলিনি। এখন মনে হচ্ছে এটাই ছিল আমার জন্য মহা ভুল সিদ্ধান্ত। এতে তারা দুঃসাহস নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বেশি করে অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়ার সাহস দেখাচ্ছে। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা আছে। সেই মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অধিকার কারও নেই। তাই বাধ্য হয়ে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। সবার মনে রাখা দরকার এখন আমি বিয়ে করেছি। শান্তিতে সংসার করতে চাই। এর জন্য সবার দোয়া চাই। যেন সংসার জীবনে সুখী হতে পারি।’