‘রোয়ানু’ আতঙ্কে নির্ঘুমরাত কাটে উপকূলবাসীর অস্বাভাবিক জোয়ারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

Posted on


<img src=”http://www.bd-pratidin.com/assets/news_images/2016/05/21/kalapara_pic(6)-_Cyclone_Roanu-_21-05-2016.jpg” alt=”‘রোয়ানু’ আতঙ্কে নির্ঘুমরাত কাটে উপকূলবাসীর

” />

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে এখনো কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগরবক্ষ উত্তাল রয়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে উপজেলার চম্পাপুর, মহিপুর ও লালুয়া ইউনিয়নের গ্রামের পর গ্রাম। উপকূল জুড়ে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের ফলে গাছপালা, কাঁচা ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। রোয়ানু’র আতঙ্কে আশ্রয়কেন্দ্র ও পাকা ভবনগুলোতে সহায়-সম্বল নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। শনিবার সকাল থেকেই অনেকের বাড়িতে উনুনে হাঁড়ি উঠেনি। সারাদিনেও দেখা যায়নি সূর্যের মুখ। এদিকে অশ্রয়হীন অভুক্ত লোকজনদের মাঝে স্থানীয়রা শুকনো খাবার বিতরণ করেছে। ঝড়ের আশঙ্কা কেটে গেলেও নিম্নাঞ্চল ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগে কমেনি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুরের বিধ্বস্ত বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে। একই অবস্থা লালুয়ার ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধের। দুই ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুকুর ও মাছের ঘের, বাড়ি ঘরও পানিতে তলিয়ে গেছে। মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুরের বেড়িবাঁধটিও চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় জেলেরা ট্রলার নিয়ে মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরের শিববাড়িয়াসহ বিভিন্ন নদীতে নিরাপদে অবস্থান করেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত মাইকে প্রচার করায় আগেই বেড়িবাঁধের বাহিরের লোকজন নিরাপদে আশ্রয় নেয়। এর ফলে তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি তাদের। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়ে ছিল। প্রস্তুত রাখা হয়ে ছিলো রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ও সিপিপি’র সকল স্বেচ্ছাসেবকদের। আপদকালীন সময় উপজেলার সকল সাইক্লোন শেল্টার ও বিদ্যালয়গুলো খোলার জন্য শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা পরিষদ মিলানায়তনে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু মোকাবেলায় জরুরি প্রস্তুতি সভা করা হয়। পরে উপজেলার গ্রামে গ্রামে বিপদ মোকাবেলায় ও নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণের জন্য ব্যাপক মাইকিং করা হয়েছে। উপজেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে কলাপাড়ায় ১১৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ হাসান পাটোয়ারী জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। তবে কিছু কিছু এলাকা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় সেখানকার চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে কোন লোকজন যেন কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে। এছাড়া যারা আশ্রয় কেন্দ্রে আছে, তাদের মাঝে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s