সমুদ্রে বিলীন মোহাম্মদ আলীর কক্সবাজারের সেই জমি

Posted on


সমুদ্রে বিলীন মোহাম্মদ আলীর  কক্সবাজারের সেই জমি

 

সর্বকালের সেরা বক্সার মোহাম্মদ আলী ১৯৭৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ওই সময়ের বিখ্যাত মডেল ভেরোনিকা পরশে, মেয়ে লায়লা আলী, ভাই, বাবা ও মা। তখনো কুর্মিটোলায় বর্তমান বিমানবন্দর উদ্বোধন হয়নি। ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরনো বিমানবন্দরে আলীকে স্বাগত জানাতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল। মোহাম্মদ আলীকে উষ্ণ অভ্যর্থনায় বুকে টেনে নিয়েছিল এ দেশের মানুষ। ওই     সফরে আলীকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নাগরিকত্বও দেওয়া হয়েছিল। তার হাতে সম্মানসূচক নাগরিকত্বের পাসপোর্ট ও প্রতীকী চাবি তুলে দেওয়া হয়েছিল। পল্টনের মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেছিলেন আলী নিজেই। তার সম্মানেই স্টেডিয়ামটির নামকরণ। বক্সিং স্টেডিয়ামের উদ্বোধনের দিন তার সম্মানে ঢাকা স্টেডিয়ামে একটি ‘বিশেষ’ বক্সিং লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় মজাও করেন মোহাম্মদ আলী। সেই লড়াইয়ে তার প্রতিপক্ষ ছিল ১২ বছরের কিশোর আবদুল হালিম। কিশোর হালিমের বিরুদ্ধে গ্লাভস পরে রিংয়ে লড়াইয়ে নেমে মানুষকে মজা দিতে সেই কিশোরের ঘুষিতে প্রবল পরাক্রমশালী বক্সার লুটিয়ে পড়েছিলেন মাটিতে। আলীকে ‘নক আউট’ হতে দেখে উল্লাস আর হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়েছিল গ্যালারি। এ সফরে মোহাম্মদ আলী বলেছিলেন, ঢাকায় এসে আমি মুগ্ধ, এটা আমার প্রিয় শহর। যাওয়ার সময় তিনি বলে যান, আই লাভ ইউ বাংলাদেশ। প্রায় সপ্তাহ খানেক বাংলাদেশে ছিলেন মোহাম্মদ আলী। সুন্দরবন, রাঙামাটি, কক্সবাজার আর সিলেটের চা-বাগানের সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছিল মার্কিন কিংবদন্তিকে। কক্সবাজারে এক টুকরা জমিও উপহার পেয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্বের পাসপোর্ট দিলে মোহাম্মদ আলী বলেছিলেন, আমেরিকা থেকে বের করে দিলেও আমার আরেকটা বাড়ি থাকবে। বিদায় বেলায় আবারও বাংলাদেশে আসার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। যাওয়ার সময় বলেছিলেন, যদি কেউ স্বর্গে যেতে চান, তাহলে বাংলাদেশে আসুন। সেই সফরে মোহাম্মদ আলীকে কক্সবাজারে এক বিঘা জমি উপহার দেওয়া হয়। আখতার নেওয়াজ রুবেল নামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন এক নেতা ওই এক বিঘা জমি আলীকে উপহার দেন। তার পিতার ৩ দশমিক ৫০ একর জমি থেকেই তিনি ওই এক বিঘা জমি তাকে দেন। নেওয়াজের পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। অথচ কক্সবাজর জেলা প্রশাসন ওই জমিটির কোনো রেকর্ডই সংরক্ষণ করেনি। দুই বছর আগে নেওয়াজ একটি ইংরেজি দৈনিককে জানান, মোহাম্মদ আলী ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে এসে কক্সবাজার সফরে গেলে ওই জমিটি তিনি তাকে উপহার হিসেবে দেন। আলীও তার ওই উপহার প্রাপ্তির একটি গ্রহণপত্র দেন নেওয়াজকে। কিন্তু সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের কেউই ওই জমিটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। ফলে কক্সবাজারের কলাতলী পয়েন্টে অবস্থিত জমিটি সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এমনকি প্রশাসন জমিটিকে আলীর মালিকানায় খারিজও করেনি। ১৯৯২-৯৪ সালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের সময় আরও ১০ একর জমির সঙ্গে আলীর জমিটিও সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মোহাম্মদ আলীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে রেজিন্যাল্ড ম্যাসির নির্মিত তথ্যচিত্রে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসার ব্যাপারে আকুতির কথা ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, বাংলাদেশ আমি তোমায় ভালোবাসি। আলী বাংলাদেশে একটি বাড়ি তৈরির কথাও বলেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কক্সবাজারে মোহাম্মদ আলীর জমি সম্পর্কে আমিও শুনেছি। তবে সেই জমির রেকর্ড সম্পর্কে না জেনে বিস্তারিত বলতে পারব না।

01

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s