ধর্ম বিষয়ক

রহমত বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজান

Posted on Updated on


রহমত বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজান

আল্লাহতায়ালার দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি আমাদের পবিত্র রমজান মাস দান করেছেন। রমজান রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। ‘সুনানে বায়হাকী’র বর্ণনা মতে হজরত সালমান ফারসী (রা.) বলেন, একবার রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়াদান করছে একটি মহান মাস যা মোবারক মাস। এ মাস এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। বস্তুত, রমজান মাসের ফজিলত বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা মুত্তাকি (খোদাভীরু) হতে পার। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রোজা আমার জন্য আর আমি নিজে এর প্রতিদান দিব।’ যার অর্থ হচ্ছে, রোজা ছাড়া অন্যান্য আমলের নেকি ফেরেশতারা আল্লাহতায়ালার নির্দেশে দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু রোজার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম। রোজার প্রতিদান বান্দাকে আল্লাহতায়ালা নিজের কুদরতি হাতে দান করবেন। রমজান মাস ধৈর্যের মাস, রমজান মাস সহনশীলতার মাস। বাংলাদেশে এবার আমরা রোজা রাখছি প্রায় ১৬ ঘণ্টা। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশে মুসলমানরা কষ্ট করে ২০-২২ ঘণ্টা রোজা রাখছেন। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, একশ্রেণির লোক নামাজ-রোজার আমল না করে কেবল আশা করে থাকে যে, আল্লাহতায়ালা আমাদের মাফ করে দেবেন। এ ধরনের লোক প্রকৃতপক্ষে আত্মপ্রবঞ্চনায় লিপ্ত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমল এবং আশা দুটোরই শিক্ষা দিয়েছেন। কোনো কোনো বক্তা এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন যে, ‘রোজার প্রথম ১০ দিনে যারা রহমত থেকে বঞ্চিত হয় তারা মাগফিরাত পাবে না আর যারা মাগফিরাত থেকে বঞ্চিত হবে তারা নাজাত পাবে না’— এ ধরনের বক্তব্য কোরআন হাদিসবিরোধী। এসব মনগড়া কথা কোনো ইসলামী জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি থেকে আশা করা যায় না। কারণ, ‘জামে তিরমিজি’তে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম রাত থেকেই এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকেন ‘হে ভালোর (নেকির) অন্বেষণকারী অগ্রসর হও, হে মন্দের অন্বেষণকারী থাম। আল্লাহতায়ালা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে দোজখ থেকে মুক্তি দেন, আর এ আহ্বান প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে।’ এই হাদিস শরিফ দ্বারা বোঝা যায়, আল্লাহতায়ালা রমজান মাসের প্রত্যেক দিবা-রাতেই বান্দাদের নাজাত দান করে থাকেন। তাছাড়া ‘সুনানে রায়হাকী’র যে বর্ণনায় হজরত সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এ মাস (রমজান মাস) যার প্রথম ভাগ রহমত, মাঝের ভাগ মাগফিরাত আর শেষ ভাগ হচ্ছে দোজখ থেকে মুক্তি’— এ বর্ণনার দ্বারা মাগফিরাতের জন্য রহমত, নাজাতের জন্য মাগফিরাতকে শর্ত করে দেওয়া হয়নি। আল্লাহতায়ালা আমাদের নেক আমল করার এবং কোরআন হাদিসের সহিহ জ্ঞান অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

01

মাসব্যাপী রোজা পালনের ফজিলত

Posted on


মাসব্যাপী রোজা পালনের ফজিলত

মুসলমানের জন্য রমজান মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ফরজ ইবাদত। সিয়াম সাধনা বা রোজা চালু হয়েছে হজরত আদম (আ.)-এর আমলে। রমজান অর্থ জ্বালিয়ে দেওয়া। আর রমজান এক বছরের ছোট বা সগিরা গুনা জ্বালিয়ে দেয়। তাই প্রতি বছর মুমিন ব্যক্তির সগিরা গুনাগুলো জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য রমজান মাস আসে। রমজান মাসে যেসব গুনা মাফ হয় তা সগিরা গুনা। নামাজ, রোজা, নেক কর্ম দ্বারা গুনা সগিরা মাফ হয়। (সূত্র : বুখারি, তিরমিজি)। বড় বা কবিরা গুনা তওবার মাধ্যমে মাফ হয়। আর তওবা মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে কবুল হয়। (সূত্র : মুসনাদে আহমদ)। রোজা ৩০ দিন ফরজ হওয়ার তাত্পর্য হলো, আদম (আ.) জান্নাতের গাছের ফল খাওয়ার পর তা ৩০ দিন পেটে ছিল। যখন তিনি খাঁটি তওবা করলেন তখন আল্লাহ ৩০ দিন তাকে রোজা রাখার হুকুম দিলেন। তার অপরাধ ও দেহ থেকে খাদ্যের উপকরণ দূর করার জন্য ৩০ দিন রোজা ফরজ করেছেন। (দুররাতুন নাসেহিন : ২৯)। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, মানুষ কোনো খাদ্য খেলে তার উপকরণ ৩০ দিন পর্যন্ত থাকে। তাই আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) গন্ধম খেলে তার উপকরণ ৩০ দিন পর্যন্ত থাকবে। সে জন্য অপবিত্র খাদ্য থেকে পবিত্র করার জন্য ৩০ দিন রোজা ফরজ করেছেন। (মাজালিসুল আবরার)। আল্লাহতায়ালা আদম ও হাওয়াকে সৃষ্টি করার পর জান্নাতে বসবাসের আদেশ দিলেন এবং বললেন যে, নিষিদ্ধ গাছের কাছে যেও না। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আদম ও হাওয়া গাছের ফল খেলেন এবং আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে তাদের দুনিয়ায় পাঠালেন। নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার কারণে আদম (আ.)-এর দেহের রং কালো হয়ে যায়। তখন ফেরেস্তারা তাঁর দেহের রং আগের মতো পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। তখন আল্লাহ চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়ে ওহি পাঠালেন। আদম (আ.) ওহি অনুযায়ী রোজা রাখলেন। এতে তার গায়ের রং উজ্জ্বল হলো। এ কারণে এ তিন দিনকে আইয়ামে বিজ বা উজ্জ্বল দিবস বলা হয়। দুনিয়ার প্রথম মানব আদম (আ.) রোজা রাখার পদ্ধতি চালু করেন। (গুনিয়াতুত তালেবিন)। মহান রব্বুল আলামিন রমজানকে নিজের মাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। যেমন— হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘রমজান মহান আল্লাহর মাস।’ (বুখারি ২/৫৮৪, হা: নং-১৮৯৪)। 01

কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা

Posted on


কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা

বিশ্বব্যাপি পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। কিন্তু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের মধ্যে ব্যবধানের কারণে বিভিন্ন দেশে রোজা পালনে সময়ের তারতম্য রয়েছে। সারাবিশ্বে কোন দেশ কত ঘণ্টা রোজা পালন করছে তার একটি চিত্র তুলে ধরেছে আরব আমিরাতের জাতীয় দৈনিক খালিজ টাইমস। এতে বলা হয়েছে, সবচেয়ে দীর্ঘসময় রোজা পালন করতে হচ্ছে সুইডেন ও ডেনমার্কের মুসলিমদেরকে। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সময় রোজা পালন করছেন আজেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়ার মুসিলমরা। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক; কোন দেশের মুসলিমরা কত ঘণ্টা রোজা পালন করছেন… ডেনমার্ক : এই দেশের মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রোজা পালন করছেন। সেহরি খাওয়ার পর থেকে ইফতার পর্যন্ত মোট ২১ ঘণ্টা রোজা পালন করছেন দেশটিতে থাকা মুসলিমরা। আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়ে : এই তিন দেশের মুসলিমদেরকে ২০ রোজা পালন করতে হচ্ছে। নেদারল্যান্ড ও বেলজিয়াম : এই দুই দেশে সাড়ে ১৮ ঘণ্টা রোজা রাখতে হচ্ছে। এরপরেই আছে স্পেন (১৭ ঘণ্টা), জার্মানিতে সাড়ে ১৬ ঘণ্টা। গত ৩০ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত রোজা রাখতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইতালিতে রোজা ১৬ ঘণ্টা। মধ্যপ্রাচ্য : সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ ঘণ্টা, মিসরে ১৬ ঘণ্টা, ফিলিস্তিনে ১৫ ঘণ্টা রোজা পালন করতে হচ্ছে। ইয়েমেনের মুসলিমরা ১৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট, কাতারের ১৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, আলজেরিয়া, মরক্কো, লিবিয়া, সুদানে ১৪ ঘণ্টা রোজা রাখছেন মুসলিমরা। সৌদি আরবে ১৫ ঘণ্টা। এশিয়া : পাকিস্তানে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা রোজা পালন করতে হচ্ছে, বাংলাদেশের মুসলিমরা ১৫ ঘণ্টার কিছু বেশি রোজা রাখছেন। ভারতে স্থানভেদে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা। আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়া : সবচেয়ে কম সময় রোজা রাখা হচ্ছে এই দুই দেশে। আজেন্টিনায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা ও অস্ট্রেলিয়ায় ১০ ঘণ্টা, ব্রাজিলে ১১ ঘণ্টা রোজা রাখছেন মুসলিমরা।   01

ধর্ম চিন্তা প্রার্থনার স্বাদ মুস্তাফা জামান আব্বাসী

Posted on


13.jpg

‘সুরা ফাতিহা’ প্রথম সুরা। মর্মবাণীর উপলব্ধির প্রয়োজন। স্বাদযন্ত্র অর্থাৎ জিভ সচল থাকলে যেমন পাওয়া যায় খাদ্যের স্বাদ তেমন ‘ফাতিহা’র মধ্য দিয়েই প্রবেশ করতে হয় পবিত্র কোরআনে। প্রতি নামাজে তাই এর উচ্চারণ। জীবন গড়িয়ে গেলেও একটি সুরাতেই প্রবেশাধিকার পাই না। গেয়ে থাকি : ‘একটা রোজা, একটা নামাজ আদমজাতে করলে সারে/তালাশ করগা আগে তারে’ [জালালউদ্দিন খান, ময়মনসিংহ, লোককবি]। বুঝতে পারি আল্লাহর অভিপ্রায়। একটি নামাজ ভালোভাবে পড়ি, আর এদিক-ওদিক নয়, সব সময় আল্লাহর নজরে বন্দি থাকি। বলি : ‘আল্লাহু মা-ঈ’, ‘আল্লাহু নাজিরি’, ‘আল্লাহু শাহিদি’। পাই ‘সা’ল তুশ্তারি’-র কাছ থেকে। তার নজরে বন্দি, আর কোথাও নয়, তার শাহি দরবারে সমাসীন, এই দরবার থেকে আর নড়ছি না। এর পরও আছে ‘স্পষ্ট জ্যোতি আল কোরআন’, সব সময় যা জ্যোতি বিচ্ছুরণ করছে। যাদের সঙ্গে ঘর করছি ভেবে দেখতে হবে যে আল্লাহর পথ এবং তাদের পথ একসঙ্গে মিশে গেছে কিনা। স ষ্টার পথের পথিক হয়ে থাকলে সঠিক পথেই আছি। ‘সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম’-এর অর্থ? চাই সে পথ, যে পথে তুমি দিয়েছ তোমার বরকত ও রহমত। অথচ সঙ্গী নির্বাচন বিপরীত। বাক্যটি তাদের স্মরণ করাতে যে যারা ইতোপূর্বে সার্থকতা লাভ করেছে, তাদের পথ চাই। পথটি নবীদের, ন্যায়বানদের, তাদের সঙ্গীসাথীদের এবং সবচেয়ে বেশি আমাদের নবীর (সা.)। তার পবিত্র জীবন চোখের সামনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলে অশ্রুসিক্ত হই। কত কষ্ট তিনি করেছেন। তার তুলনায় আমরা সামান্যই কষ্ট ভোগ করেছি। ও কথা ভাবলে বর্তমান কষ্টের দিনগুলো মধুরতর হয়ে ওঠে। দুনিয়ায় শত কোটিরও বেশি মুসলমান। কী নিয়ামত পেলাম এ জীবনে। অথচ অধিকাংশই পেল না অধিকার, দু’মুঠো অন্ন। অভিশপ্ত যারা তাদের পথ আমাদের নয়। বলা হয়েছে : ‘গাইরুল মাগদুবি আলাইহিম’। অভিশপ্তদের ইতিহাস জানা কোরআন থেকেই। বলা হলো : ‘ওয়ালাদ্দুয়াল্লিন’ [তাদের পথ নয়, যারা সরে গেছে]। প্রার্থনা তারাও করে, অসমর্থিত পথে। জ্ঞানের অভাব অথবা বক্র পথ অনুগমন সৃষ্টি করেছে এমন অবস্থার। বরকত আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর কারও নয়, যখন বলা হলো ‘আনআমতা’ অর্থাৎ তুমি দিয়েছ। একমাত্র তিনি বরকত দেওয়ার মালিক। এ সুরাটি পাঠ করার পরই তোমার বরকতের মুখাপেক্ষী। এ সুরাটিতেই যদি থাকি পূর্ণভাবে মগ্ন ও সমর্পিত, যথেষ্ট। বিধাতা নন মূক ও বধির। তিনি তাকিয়ে হৃদয়পানে একটি সমর্পণের জন্য।

বেকুবদের কাছে আর নয়, তারা বন্ধু নয়, কোনো দিন ছিল না, এখনো নয়, কোনো দিন হবে না। বেকুব অর্থাৎ অন্য পথের পথিক। আল্লাহর পানে পেতেছি জায়নামাজ, মজলিসের শেষ হবে যে বাণী দিয়ে, সেই বাণী এখন উচ্চারণ করি। তা হলো : ‘আমিন’। ‘আমিন’ বলার সঙ্গে ফেরেশতাদের উচ্চারণ : ‘আমিন’, ‘আমিন’। আল্লাহর কাছে যা সেরা উচ্চারণ। ফেরেশতারা ‘আমিন’ শোনার জন্য উত্কর্ণ। কাবা শরিফে, মদিনায়, বাগদাদে, আজমিরে, ‘আমিন’ উচ্চারিত হওয়ার পর কিছু মুমিনকে পেয়েছি বেহুঁশ। চেষ্টা করি ‘আমিন’-এর তাত্পর্য খুঁজতে। ‘সুরা ফাতিহা’য় যা বর্ণিত, প্রতি শব্দ গেঁথে নিই’ নিজ হৃদয়ে। বার বার পড়ি, যেন অন্য কোনো মায়াজালে বন্দী না হয় এ হৃদয়, বেহেশতের সুবাতাস যেন হৃদয়ের কন্দরে নিয়ে আসে নতুন আবর্ত। যেমনটি কবির উচ্চারণ : ‘দে দোল দোল’। দুলতে থাকুক হৃদয় ‘আমিন’-এর আবর্তে। দুলছে পৃথিবী, এর সঙ্গে পৃথিবী দেখছে আমার পাগলপ্রায় হালত। ‘আমিন’-এর মূর্ছনা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। যারা শুনতে পাবে না, তারাও অচিরেই পাবে। নবী (সা.) বলেছেন ‘আমিন’ বলার সঙ্গে সঙ্গে অগণিত ফেরেশতার ‘আমিন’ ধ্বনি উচ্চারিত। এক সালাতের এত মরতবা। তাহলে কেন এর পেছনেই সময় দেব না? ওদের দলে পড়ে কি চিন্তার ক্ষমতা রহিত হয়ে গেছে? বেকুবদের মজলিসে কী এমন আছে, যা ওই বাণীর চেয়েও মধুর? ‘আল-ফাতিহা’র মধুরতা নিয়ে লেখা হয়েছে প্রচুর, কে পড়বে সেগুলো? রসুল (সা.)-এর দিকেই করি দৃষ্টিপাত। বলছেন : ‘তার নামাজ হয়নি, যে শুরু করেনি কোরআনের প্রারম্ভিক অধ্যায়’ দিয়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘সুরা ফাতিহা’। কবি এর সুন্দর বাংলা করেছেন, পাঠ করার সময় অনেকবার মনে হয়েছে এটি স্বয়ং আল্লাহর সমর্থনপুষ্ট। ‘অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি, বিচার দিনের স্বামী/যত গুণগান হে চিরমহান, তোমারই হে অন্তর্যামী/দ্যুলোক ভ্যুলোক সবারে ছাড়িয়া, তোমারই সকাশে পড়ি লুটাইয়া/তোমার কাছে যাচি হে শকতি, তোমারই করুণাকামী।/সরল সঠিক পুণ্য পন্থা মোদেরে দাও গো বলি, চালাও সে পথে যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি’। … [কবি গোলাম মোস্তফা]

আল্লাহ বলছেন : ‘প্রার্থনাকে ভাগ করেছি দুই ভাগে, একটি আমার, আরেকটি ভৃত্যের। ভৃত্য যা চাইবে, তাই সে পাবে’। যখন সে বলে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সবগুলো পৃথিবীর মালিক, আল্লাহ বলেন : ‘ভৃত্য আমার প্রশংসায় নিয়োজিত’। যখন ভৃত্য বলে, আল্লাহ করুণাময় ও প্রেমময়, তখন আল্লাহ বলেন : ‘ভৃত্য আমাকে মহিমা দিয়েছে’। যখন সে বলে বিচার দিনের স্বামী, তখন আল্লাহ বলেন : ‘ভৃত্য আমাকে দিয়েছে মহিমা। অথবা তার জীবনের সব কিছু আমার প্রতি সমর্পণ করেছে’। যখন সে বলে একমাত্র তোমাকে আমরা ইবাদত করি এবং একমাত্র তোমার কাছেই আমরা সাহায্য চাই, তখন আল্লাহ বলেন : ‘এটা আমার ও আমার ভৃত্য সম্পর্কিত। সে যা চায়, তাই তাকে দেওয়া হবে’। যখন সে বলে, আমাদের দেখাও সরল পথ, সেই পথ যা তোমার পছন্দনীয়, যে পথ তোমার ক্রোধ জাগ্রত করে, তা নয়। যারা তোমাকে ছেড়ে গেছে, তা নয়। তখন আল্লাহ বলেন : ‘এটা আমার ভৃত্যের জন্য। সে যা চায়, তাই তাকে দেওয়া হবে’। এবার সালাতে দাঁড়ান। আপনার করুণাকামী সত্তার দিকে কী গভীরভাবে তাকিয়ে আছেন তিনি। তাঁর অপরূপ মহিমান্বিত দৃষ্টি আপনাকে কীভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। কী আনন্দ আজ তাঁর ভৃত্য হয়ে!

লেখক : সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব, ইমেইল :mabbasi@dhaka.net

সং

– See more at: http://www.bd-pratidin.com/first-page/2016/02/13/126802#sthash.Z05AvgcZ.dpuf